ক্ষত
ভিভান নিজের ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে রেখে দিলো তার খাটের উপর, আর 30 মিনিট এর মধ্যে বেরোবে সে,গন্তব্য .......
ভিভান দাস , জেভিয়ার্সর থার্ড ইয়ার এর ছাত্র ।ব্যাবসা দার বাবার অঢেল টাকার মালিক সে।সে তার কলেজ এ যায় তার জাগুয়ার নিয়ে। টল-ডার্ক হ্যান্ডসাম বলতে যা বোঝাই একদম তার কার্বন কপি।বালাই বাহুল্য যে কলেজ এর সমস্ত মেয়েদের হার্ট থ্রব সে।একে তার লুক্স র অন্যটা তার পয়সা।মেয়েদের সে প্রতি রাতে বদলাতো জামা কাপড়ের মতো করে। আর তার আবার একটা গ্যাং ও ছিল,নাম প্যানথার। সারাক্ষন তাদের কাজ ছিলো বার এ গিয়ে মদ র গাঁজা খেয়ে বুঁদ হয়ে থাকা।তারপর নিজের বীর্য পতন করার জন্য কাউকে খুঁজে তার সাথে রাত কাটানো। কলেজ টা ছিলো তাদের কাছে নতুন পাখি ধরার খাঁচা।
ভিভান এর মেজাজ টা ভাল নেই একদম।তার সন্মান মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে,1st ইয়ার এর একটা মেয়ে।কলেজে আর সমস্ত মেয়েরা তাকে পাওয়ার জন্য উদগ্রীব।আর সেখানে .......
নেহা পোদ্দার, টালীগঞ্জে দোতলা বাড়ি তাদের,থাকে মাসির সঙ্গে।মা থাকেন শিলিগুড়ি তে।সেখানে তাদের ফার্নিচার এর ব্যাবসা।বাবা অনেকদিন আগেই ডিভোর্স দিয়ে লন্ডনবাসী নতুন সংসার পেতে। খুব মেধাবী ছাত্রী না হলেও, উচ্চ মাধ্যমিকে 1ডিভিশন পেয়ে ,আর কিছুটা ব্যাকিং এর জোড়েই তার নাম ওঠে Xaviers কলেজে।আর্টস নিয়ে ভর্তি হয় সে কলেজে,কিন্তু অভিনয় ছিলো তার ভালোবাসার বিষয়।তার জন্যই তার কলকাতায় আসা।
সাদা জামা,ডেনিম জিন্স র চোখে সানগ্লাস পরে প্রথম দিন কলেজে গেছিলো নেহা।ফারু দেখাচ্ছিল তাকে।প্যানথার এর নজরেও আসে নতুন পাখির জালে ধরা দেওয়ার শব্দ।কলেজ এ ঢুকতেই শুরু হয় প্রথম বছর স্টুডেন্ট দের ওপর raging। নেহা কে বলা হয় এই কলেজে এর সবথেকে হ্যানডু ছেলেকে আই লাভ ইউ বলতে হবে তাকে।খুব অস্বস্তী আর রাগ নিয়ে তাড়াহুড়োর মধ্যে যেতে গিয়ে সে স্লীপ কেটে যায়, আর তার মাঝেই ভিভান তাকে কোমরে জড়িয়ে ধরে সামলে দেয় । আর তার কোমড় ধরেই নেহা কে বলে" আই ডু"। নেহা হকচকিয়ে যায়,বলে sorry.ভিভান বলে baby dont।শুরু হোলো নতুন পাখি ধারার কলা কৌশল। নেহা তার পর থেকে ভিভান কে দেখলেই রাগে তাকে avoid করতে থাকে, ভিভান ও সেই দিন থেকে তাকে দেখার জন্য রোজ কলেজে আসতে থাকে।কিন্তু দেখা হলেও নেহা তাকে পাত্তা দেয় না।আর তার রাগ ,কৌতূহল যা বলো সব ঐখানেই।সবাই যার সঙ্গে একটা দিন কাটানোর জন্য উদগ্রীব,আর নেহা তাকেই এভয়েড করছে।
এই ভাবে কেটে যায় দুমাস। নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে ভিভান সোজা নেহার ক্লাস এ ঢুকে তাকে বেরিয়ে আসতে বলে, তার কিছু বলার আছে ।অপ্রস্তুত নেহা বুঝতে পারে না,কি করবে সে। অবশেষে সে ক্লাস থেকে বেরিয়ে মুখোমুখি হয় ভিভানের।চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞাসা করে কি দরকার তাকে।বাঘিনীর মতো ক্ষীপ্ত সে। ভিভান তাকে বলে I Love U,আমি তোমাকে চাই।সঙ্গে সঙ্গে না বলে,নেহা।ক্ষিপ্ত ভিভান তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যেতে চাই,কোসিয়া একটা চড় মারে ভিভান কে পুরো কলেজের সামনে।ক্ষিপ্ত ভিভান তার দুকাটি বাইক নিয়ে বেরিয়ে পরে। এক ঘন্টা সে পাগলের মতো বাইক চালাতে থাকে।তারপর নিজেকে ঠান্ডা করে সে মদের বোতল র বীর্য স্খলন করে।আর শুধু ভাবতে থাকে কি ভাবে সে তার এই অপমানের বদলা নেবে।ভাবতে ভাবতে তার মাথায় আসে ,নেহার সবথেকে দম্ভ হোলো তার সুন্দরী হওয়া।সেটাকেই শেষ করতে হবে।
যেমনি ভাবা তেমনি কাজ শুরু।মিউরিক এসিড নিয়ে সে লোক পাঠায় নেহার দম্ভ ভাঙ্গার জন্য ।কলেজ শেষ সবাই বাড়ির পথে, হঠাৎ করে বাইক এ করে এসে একটি ছেলে এসিড টা ছুড়ে দেয় নেহার দিকে, মুহূর্তে তার সুন্দর মুখ টা ঝলসে যেতে থাকে ,নেহার আর্তনাদে এ চারিদিক থেকে প্রতিফলিত হতে থাকে।
RSV হসপিটালে ভর্তি সে।বার্ন ওয়ার্ড এ। একটা চোখ পুরো নষ্ট হয়ে, আর গাল দুটো পুরো ঝলসে গেছে।এই খবর পাওয়ার পর তার তো শান্তি পাওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু তা তো হয়নি তার।মনে হচ্ছে তার মনের ভেতরে কেউ এসিড ঢেলে দিয়েছে, জ্বালা ভীষণ জ্বালা করছে তার।
মেয়ের করুন অবস্থায় তার মা নির্জা সব কিছু ছেরে ছুরে চলে আসেন কলকাতায়।র নিজেকে কোষতে থাকেন কেন তাকে কলকাতা আসার অনুমতি দিয়েছিলেন। কলকাতার বরো বরো ডক্টররা একসাথে বোর্ড বসিয়ে কি ভাবে তাকে সুস্থ করা যায় তাই নিয়ে চললো আলোচনা,সেই অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট।মেয়ের খবর এসে পৌঁছায় তার বাবার কাছেও। তৎক্ষণাৎ তিনি ফোন করে কথা বলেন নির্যার সাথে।লণ্ডনে নির্জা যদি নেহা কে নিয়ে যায় সে তার ট্রিটমেন্ট এর সব ব্যাবস্থা করে রাখবে। নির্জা তাকে জানায় ,সে পরে তাকে জানাবে। সারাক্ষন শুধু নেহার জ্বালা, আর্ত চিৎকার তার মা আর মাসির কাছে যেনো মৃত্যুর আর্তনাদ।এই ভাবে কেটে যায় এক মাস। নির্জা তার শিলিগুড়ির বাড়ি টা বাদে সব বিক্রি করে চলে আসে কলকাতায়, তার বোনের কাছে।
পুলিশ FIR করেছে ঠিক ই কিন্তু কোনো কুল কিনারা করতে পারছে না। সবার সঙ্গে কথা বলেছে ,ভিভান এর নাম উঠে এলেও ,সে তার বাইরে থাকার বোর্ডিং পাস, হোটেল বিল সব দেখিয়ে ক্লিন চিট।
নির্জা র রোজ কাজ হয়েছে হসপিটাল থেকে পুলিশ স্টেশনে আবার পুলিশ স্টেশনে থেকে হসপিটাল।
অদ্ভুত রকম জীবন হয়ে গেছে এই তিন নারীর। প্রায় তিন মাস কাটার পর নেহার জ্বালা র পোড়ার যন্ত্রটানা অনেকে টাই কম, কিন্তু মুখে এখনো ব্যান্ডেজ বাধা। ডক্টর দাশগুপ্ত, উনার আন্ডারেই রয়েছে নেহা।উনি বলছেন ব্যান্ডেজ খুলতে এখনো মাস খানেক লাগবে।তারপর তারা ডিসিশন নেবেন কি করা যাবে।
ভিভান মাঝে মাঝে দেখা করতে আসে নেহার সঙ্গে, তার অন্য বন্ধুদের মতোই। সবাই দেখা করতে আসে নেহার সঙ্গে ভিভান আসে তার কুৎসিৎ রূপটা দেখতে কেমন হবে তার অবয়ব আঁকতে। সময় যত যায় বন্ধুদের আসার সংখ্যাও কমতে থাকে,কিন্তু ভিভান আস্তে থাকে,এই ভাবে আস্তে আস্তে ভিভানের সাথে কথা বলতে শুরু করে নেহা। নেহা কে সে convince করে নেয় এই ঘটনার পেছনে তার কোনো হাত নেই।
আজ তিন মাস কমপ্লিট হলো ভিভান র নেহার বন্ধুত্তর। আস্তে আস্তে সে চিনেছে নেহা কে,বুঝেছে তাঁকে, ভালো হয়তো বেসেও ফেলেছে তাকে।মনের মধ্যে সেই ক্রুরতা নেই তার আর।
আজ সেইদিন যেদিন তার মুখ থেকে ব্যান্ডেজ খুলবে ডক্টর দাস গুপ্ত।আজ ভিভান নিজে থাকলেও নির্জা আজ উপস্থিত থাকতে পারেনি।তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরে গেছে।সবাই উদগ্রীব ভাবে চেয়ে আছে নেহার দিকে, ডার্ক রুম এ নিয়ে যাওয়া হোলো তাকে। ডক্টর শুধু একটা আলো জ্বালিয়ে খুলতে শুরু করলো তার ব্যান্ডেজ। শেষ হল ব্যান্ডেজ খোলা।নেহা কে দেখে ডক্টর সেন ভাবলেন মনে মনে, না খোলা হলেই ভালো হোতো। সিস্টার ও তার মুখ দেখে বলে উঠলো "ও মা গো"। ডক্টর রাগে তাকে বেরিয়ে যেতে বলেন শান্ত গলায়।নেহার কাছে কিছু টা পরিষ্কার তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে। কিন্তু সেও যে দাঁতে দাঁত চেপে কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হতে চাই। ডক্টর তার কথা মতো আলো জালালেন ,র-----–---------
তখন তার মনে হলো এর থেকে মরে যাওয়াটাই ভালো ছিলো। বীভৎস কেঁপে উঠবে তার এই মুখ দেখে।সামনের আইনা টাতে ছুড়ে মারে তার হাতের সামনে থাকা সার্জিক্যাল ট্রে টা নিয়ে।
ডার্ক রুম থেকে বেরিয়ে আসে সবাই। নেহাকে দেখার জন্য সবাই উদগ্রীব।কেউ কৌতূহলী তো কেউ সমব্যাথি । ডক্টর শুধুমাত্র তার মাসি আর ভিভানকে ছাড়া কাউকে থাকতে দেয় না। নেহা কোনো মতেই ভিভান কে তার এই রূপ দেখাবে না,কিন্তু ভিভান তাকে বোঝাই বাস্তবের মুখোমুখি থাকাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।নেহা কে দেখে ভিভানের ও মনে হয় মুখটা না দেখল হইতো ভালোই হোতো। স্বপ্নেও এই রূপ বীভৎস।নিজেকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে করে তার।এর জন্য তো সেই দায়ী।কি করবে সে,কি কিরে ঠিক করবে সে সবকিছু।অবশেষে সেই বিষাদেই ডুবে যায় সে। রাতে সে তার বোতল বন্ধু অর্ণবের সাথে মদ খেতে খেতে সব বলে ফেলে,কি করে সে প্রথম দিন থেকে নেহা কে বিছানায় তোলার জন্য উদগ্রীব ছিলো। তার প্রত্যাখ্যানএর গল্প ,তার বদলার গল্প , সব বলে ফেলে সে।
তার পৈশাচিক আনন্দের কথা,তার কষ্টের কথা,তার ভালোবাসার কথা।নেশার ঘরে সে সব বলে ফলে তার বন্ধু অর্ণব কে।শুনে আট পেগ খাওয়া অর্ণবের নেশা পুরো ফেটে যায়।সে বুঝতে পারে না কি বলবে ভিভান কে।স্বান্তনা দেবে না পুলিশে খবর দেবে।সব বাদ দিয়ে ভাবতে থাকে বন্ধুর এত দিনের ইনভেস্টমেন্ট এর কিছু তো ফেরত দিতে হবে। আর যা হবার হয়ে গেছে, ভিভানকে জেলে পাঠালে কি সব বদলাবে,র ছেলেটাও তো মেয়েটাকে খুব ভালোবাসে।যদিও ভিভান তার বোনকে প্রেগনেন্ট করে দেয় তবুও তাকে ফাঁসানো উচিত হবে না।কি করবে ভেবে পাই না সে।
এই সব ভাবতে ভাবতে সে আরও তিন পেগ পুরে দেয় গলায় ,বিল টা কিন্তু ভিভানই পে করবে।
আজ একমাস হতে চললো ভিভান দেখা করতে যায়নি নেহার সাথে, দূর দেখা করে কি করবে, এই ঝলসানো মুখটাকে দিয়ে। রাতের পর রাত সে গেছে বিভিন্ন বডি মাসাজ পারলারে, সেখানে ফাটিয়ে রতি খেলা করেছে সে,খেলা শেষে যখন তার ঘুম আসতো তখনি নেহার ঝলসানো মুখটা ভেসে উঠতো।কিছুতেই সে ঘুমাতে পারতো না।অবশেষে সে দেখা করতে যায় নেহার সাথে হসপিটালে,কিন্তু পায় না সে দেখা।সঙ্গে সঙ্গে তার গাড়ি নিয়ে টালিগঞ্জের বাড়িতে, সেখানেও তালা।আশেপাশের কেউ কিছুই বলতে পারলো না তাকে।অবশেষে নিজের বাড়ির দিকেই রওনা দেয় সে।।
সোনিয়ার উনিসেক্স সালোন & স্পা বেশ নাম করেছে অল্প সময়ের মধ্যেই ।সাধারণ লোকের নাগালের বাইরে ,এলিট ক্লাস রা যাবার আগে একটু ভাবে।সালোন ,স্পা ,বডি মাসাজ সবকিছুতেই তার আছে সবার থেকে আলাদা এক fregnance র টাফ সিকিউরিটি ।সোনিয়া সালোন এর মালিক হলেন মিস নম্রতা।যেমন নাম তেমনি দেখতেও । অপ্সরা রা মনে হবে তার বাড়ির কাজের লোক। তাকে বিছানায় তোলা একরকম অসম্ভব ব্যাপার।একমাত্র দেবী যদি নিজে সদয় না হন।যে কোনো মহিলার কাছে ঈর্ষার বিষয় তিনি।
তবে তার ও আছে একটাই কমজরি, কচি ছেলের সঙ্গে ওরাল সেক্স, খুশি করতে পারলেই পাস।সারারাত উদ্দাম সেক্স। তবে হাজারে একটা বিড়ালের ভাগ্যে সিকে ছেরে।
ভিভানের কানে আসে সোনিয়া সালন এর গুড উইল।সঙ্গে মিস নম্রতার ব্যাপার টাও। সোনিয়া সালনের প্লাটিনাম কার্ড করায় সে। আর দেখা হয় নম্রতা ম্যাডাম এর সাথে।আগুন লাগে দুদিকেই।একজন আগুন তো আরএকজন ঘি। ভিভান ও চাইলো কতো তারাতারি নম্রতা ম্যাডামের সঙ্গে টিক টিক ঘোড়া খেলবে,র নম্রতা ম্যাডাম ও চাইছেন মাছটাকে খেলিয়া কতো তাড়াতাড়ি তোলা যায়। ভিভান সোনিয়া তে যায় ঠিক ই কিন্তু কিচ্ছু করে না, যায় র চলে আসে সে।ব্যাপার টা নম্রতা ম্যাডামের ও চোখ এরাই না।অবশেষে 7 দিনের দিন তিনি জিজ্ঞাসা করেন এই আচরনের কি কারণ।ভিভান শুধু তাঁকে দেখাই তার হাতে লেখা নম্রতা নাম ট্যাটু করা।সে খুব খুশি হয়,কিন্তু তা প্রকাশ করে না।
এইভাবেই চলে বেশ কয়েকদিন ,অবশেষে বাঁধ ভাঙলো নদীর।দুজনে বেরিয়ে পড়লো জাগুয়ার করে মন্দার মনির বুকে,মুক্ত খুঁজতে।নম্রতার এজেন্ট আগে থেকেই বুক করে রেখেছিল পেন্টা হাউস দুজনের জন্য। চার ঘণ্টার রাস্তা তাদের। জাগুয়ার এর ভেতরটা পুরো মায়াবী, গাড়িতে বসেছে না হোটেলের বেড এ বসেছে বোঝা যাচ্ছে না।নীল আলো ভেতরে টাকে পুরো মায়াবী করে রেখেছে, সঙ্গে চলছে স্লো ইংলিশ গান এনরিকের। অসাধারণ। পাশে বিয়ার রাখা সেফটি ট্রেতে। গাড়িটা যে চলছে বোঝাই যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে আকাশ এ উড়ে যাচ্ছে।অসাধারণ লাগছে নম্রতার,সঙ্গে একজন হ্যান্ডসম বয়।তাতে কি দুদিনের জন্যই হোক না কেন।কলকাতায় ফিরে যে যার নিজের মতো। কিন্তু প্রতিকটা মুহূর্ত সে বাঁচতে চাই কোনো REGREAT ছাড়াই।আজ সে মুক্ত।
কোলাঘাট গিয়ে দুজনেই শের এ পাঞ্জাব এ খেয়ে নেয়, আর ফ্রেশ ও হয়ে নেয়।এতক্ষন কেউ কারোর সাথে কোনো কথা বলেনি,
নম্রতাই তাকে প্রথম জিজ্ঞাসা করে ,কি করে সে।বাড়িতে কে কে আছে।তার কি প্ল্যান ফিউচারে।
এত প্রশ্ন শুনে তার একটাই উত্তর, mind your own business।ব্যাস সব চুপচাপ। আরো কিছুক্ষণ পর ক্ষমা চেয়ে নেই ভিভান নম্রতার কাছে। আবার সব নরমাল।কিন্তু একটাই টার্ম এন্ড কন্ডিশন কেউ কারোর পারসোনাল বিষয় নিয়ে কোনো কথা হবে না।এগ্রি করে দুজনেই।
নেহার কথা পুরো ভুলেগেছে ভিভান।এখন তার দিল ওর দিমাগ সব আটকে গেছে নম্রতার ওপর।বিশেষ করে.........
তারা মনদার মনি পৌঁছায় দুপুরের দিকে, রুম এ ফ্রেশ হয়ে হালকা করে খেয়ে নেয় দুজনে।তারপর সমুদ্রর পাশে বসে দুজনেই সমুদ্র উপভোগ করতে থাকে।হাতে স্যাম্পেনের গ্লাস নিয়ে।এটাই প্রথম তাদের মনদার মনি আসা।একটু সন্ধ্যায় দুজনেই চলে আসে রুম এ । কাঁচের ব্যালকনি থেকে দেখা যায় পুরো সমুদ্র টা।রুম এ ঢুকে ফ্রেশ হতে যাই নম্রতা।পুরো রুম এ আরোমা ক্যান্ডেল আর গন্ধে অন্যরকম পরিবেশ।নীল রঙের না জোরালো না হালকা আলোয় ঘর টাকে মনে হচ্ছে কোনো স্বর্গের অংশ।চারিদিকে ফুল । এক অসাধারণ পরিবেশ।কামদেব ও যেন এই পরিবেশ পেয়ে আরো কামুক র শক্তিশালী মনে করবে নিজেকে। নিজেও হাল্কা তৈরি হয়ে নেয় ভিভান ।
বাথরুম থেকে বেরিয়ে নম্রতাকে যেন কোনো ডানা কাটা পরী মনে হয় ভিভানের। লাল রঙের ট্রান্সপারেন্ট নেট এর ওপর থেকে শুধু দেখা যাচ্ছে তার ভেতরের অন্তর্বাস। প্রতি কাটা শরীরের খাঁজ শুধু ভিভান কে কেন কামদেব কেও উত্তেজিত করার জন্য যথেষ্ট। তার লাল বেদনার মতো পুরু ঠোঁট দুটো যেন চুষে খওয়ার জন্য যেকোনো সাধু তার তপ ভঙ্গ করতে প্রস্তুত। তার গায়ের গন্ধ যেন মৃগয়ার কূস্তুরী কেও টেক্কা দেয়।অদ্ভুত ভালো লাগে ভিভানের,সে যেনো এর জন্য মোড়ে যেতেও প্রস্তুত।
ভিভান তার হোটেলের সাদা বাথরোব পরে শরীর এলিয়ে ইজি চেয়ারে বসে অপেক্ষা করতে থাকে তার পরীর।বাথরুম থেকে বেরোনো নম্রতা কে শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে থাকে সে ।শুরু হয় রাতের খেলা দুই মহারথীর।
ভিভানের কোলের উপর উঠে বসে সে,শান্ত ভিভান চুপ করে এনজয় কোরতে থাকে সবকটা মুভ।নম্রতা খেলা করতে থাকে তার পেটানো শরীর টার সঙ্গে।আস্তে আস্তে ভিভান ডুবে যায় তার ঠোঁটে, আকন্ঠ পান করে বেদনার রস।তারপরে সে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাই তার বুকের নরম মাংসর মাঝে,এ যেন তার শুধু তার। বিশাল নরম বিছানায় গিয়ে মেসে দুটো শরীর, দুটো মন,বুঝে নিতে চাই একে অপরের কাছে তাদের সব হিসাব। ভিভানের মনে হয় এত দিন সে যা দেখেছে শুনেছে সব ভুল।এই পরী একমাত্র সত্যি।নম্রতাও পেটানো শরীর টাকে তার নখ দিয়ে চিরে ফেলে ।একজন নখ দিয়ে অন্য জন তার ঠোঁট দিয়ে বোঝাতে চাই কতটা তৃপ্ত হতে চাই তারা। ভিভানের প্রতিকাটা অঙ্গে নিজের signature করে দেয় লাভ বাইট দিয়ে। শুয়ে শুয়ে সমস্ত রকমের মুভ উপলব্ধি করতে থাকে সে।নম্রতা তার হাত দুটো বেঁধে দেয় খাটের সঙ্গে, সারা শরীরে জিভ নিয়ে খেলা করতে করতে সে পৌঁছায় ভিভানের পুরুষাঙ্গে, নিয়ে নেই নিজের মুখে,খেতে থাকে তার পছন্দের আইস ক্রিম আর মতো কোরে,ভিভানের ইচ্ছে করে দুমড়ে মুসরে সে খেয়ে নেই তাকে,কিন্তু তার হাত বাঁধা।
হঠাৎ করে ভিভানের পেটে চেপে বসে,ভিভানের পায়ের দিকে মুখ করে খেতে থাকে আইস ক্রিম,র ভিভানের জন্য খুলে দেয় নরম রসালো জুসি ফল,এই ভাবে কতক্ষন গেলো কারোর জানা নেই,দুজনেই 100% দিয়ে করতে থাকে নিজের কাজ।অবশেষে ভিভানের পুরুষাঙ্গ ঢুকে যেতে থাকে নম্রতার নরম গুহায়। অনেক্ষন যুদ্ধ করার পর শেষ হয় যুদ্ধ।শান্ত হয় সমগ্র জগৎ। ভিভানের নিজের সম্পর্কের দম্ভ হয়ে যায় শেষ।এখন সে পৃথিবীর সব থেকে সন্তুষ্ট মানুষ।
কি ভাবে দুইদিন কেটে গেলো জানাই নেই তাদের,দুজনের কেউ সূর্য দেখেনি এই দুদিনে।কাল তাদের কলকাতা ফেরার পালা। তাই তারা স্নান করতে নেমেছে সমুদ্রতে।জোয়ারের সময়,বিশাল বিশাল ঢেউ আঁছড়ে আঁছড়ে পড়ছে পারে। দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল যেখানে, সেইখানে নম্রতা চলে যায় অনেক দূরে গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে।ভিভান তাকে ডাকতে থাকে,বারবার ফিরে আসার জন্য।কিছুক্ষণ পর তার হুঁশ আসে তার বিপদ সম্পর্কে। চিৎকার করে সে ডাকতে থাকে ভিভান কে, ভিভানের ভয় জল কেই,সে আস্তে চাইনি একবার ও ,সমুদ্রোতে।কি করবে বুঝতে পারে না, অবশেষে সে এগোতে থাকে নম্রতা কে বাঁচানোর জন্য। সে যত এগোয় তার থেকেও বেশি স্পিডে সে এগোতে থাকে স্রোতের টানেসমুদ্রোর দিকে।পেরিয়ে যায় নম্রতা কে,চিৎকার করে তাকে বাঁচানোর জন্য,কিন্তু নম্রতার হাত ছুঁয়ে গেলেও সে ভিভান কে ধরতে পারে না।পারে থাকা অনেক লোক দর্শকের মতো শুধু দেখতে থাকে। সমুদ্রর অতল গহবরে হারিয়ে যায় ভিভান।কোনোরকমে ফিরে আসে নম্রতা।
পুলিশ আসে, সমুদ্র তে খোঁজ চালিয়ে ভোরের বেলায় বার করে আনে ভিভানের ,জলে ফুলে যাওয়া বডিটা।
নম্রতার সব কাজ শেষ করে পুলিশ এর সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সে মনদার মনি ছাড়ে সন্ধের দিকে ।
খুব ক্লান্ত সে, শারীরিক র মানসিক ভাবে। ভোরের দিকে সে পৌঁছায় tollygange এর বাড়িতে,ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিয়ে সে ফ্লাইট ধরে মুম্বাই যাওয়ার।
দুদিন পরেই তার মেয়ে নেহা ফিরেছে লন্ডন থেকে তার মাসির সঙ্গে,প্লাস্টিক সারজারি করিয়ে।

Comments
Post a Comment