সাইকোপাত- SANJIB DAS
আজকের আনন্দবাজারের ফ্রন্ট পেজে তার ছবি। আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্লাবটার পাশে বস্তিটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা জামায় আগুন জ্বলছে,পিঠের চামড়া পোড়া, সারা মুখে কালি,ডান হাতটারও ওপরের চামড়া আগুনে ঝলসে সাদা ত্বক বেরিয়ে যাওয়া,সেই অবস্থায় মানুষ গুলোকে বের করে আনা একটা সাধারণ ছেলের আসাধার ছবি। হসপিটালের বেডে শুয়ে শুয়ে খবরের কাগজ দেখে সেটা পাশে রেখে দীর্ঘ নিঃস্বাস ফেলে পল্টু। ভালো নাম স্পন্দন বক্সী। হসপিটালের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আফসোস করতে থাকে বেলা 12 টা বাজতে 10 মিনিট বাকি। আজকের সকালের খবরের কাগজ টা সে দিতে পারলো না। কাজে আর দোকানেও সে আগামী 5 দিন পারবে না,বারন আছে ডাক্তার বাবুর। কাল ছেরে দেবে বলেছে,কিন্তু বাকি 3 দিন রেস্ট। তার পরে কাজে গেলে ওস্তাদ লাথি মেরে ভাগিয়া দেবে তাকে,ভালো করে চেনে পল্টু ওস্তাদ কে। চেহারা টার মধ্যে তেমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই তার, বেটে বা লম্বা কিছুই বলা যায় না তাকে। অদ্ভুত একটা সাধারণ ছেলে,আলাদা করে চোখে পড়ার মতো কিছুই নেই তার রূপে। কালো, চোখ দুটো অনুজ্জ্বল, চুল পেতে আঁচড়ানো, কথা বলে আমতা আমতা করে, সেল্ফ কনফিডেন্স দিতে ভুলেই গেছে ভগবান। আর তার পল্টু নামই যেন তার চরিত্রের সব বর্ণনা দিয়ে দেয়।
12:30 নাগাদ ছুটতে ছুটতে তার মা ঢোকে বার্ন ওয়ার্ড,চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে ঢুকে বলতে শুরু করে,এ কি করলি তুই,তুই চলে গেলে আমাদের কি হবে,কে দেখবে আমাদের,সিস্টার বিরক্ত হয়ে বলে, কিচ্ছু হয়নি আপনার ছেলের। কাল ই ছেড়ে দেবে ডক্টর বলেছেন। পল্টুর কথা বলতে ইচ্ছে করছিল না,সেও বিরক্ত হয়ে বলে,আমার কিছু হয়নি।আমি ঠিক আছি।শুনে উনি একটু ধাতস্থ হলেন। কিছু টুকটাক কথা বলার পরে পল্টু বুঝতে পারে তার হাতের যন্ত্রনাটা বাড়ছে। সিস্টার কে বলতেই উনি ওষুধ লাগিয়ে দিয়ে বলেন একটু ঘুমানোর জন্য। পল্টুর খুব ঘুম পায়। সে আবার ঘুমিয়ে পড়ে, ওর মা বাড়ি চলে যায়। বিকেলে আসবে বলে। স্বপ্নের মধ্যে সে দেখতে পায় গতকালের সেইঘাটনা।
আমরা কজন ক্লাব যেটা কাল বস্তিটার সঙ্গে পুড়ে গেছে,ওর পাশ দিয়ে প্রতিদিন পড়তে যেত দিয়া র রত্না।দিয়া হলো পল্টুর বোন র রত্না হলো দিয়ার বন্ধু। মাধ্যমিক এর ছাত্রী তারা। কোচিনে যাবার ওটাই একমাত্র রাস্তা। ওই ক্লাবের পাশ দিয়া যাওয়ার আসার সময় রোজ তাদের গালাগালী, টোন, রাস্তা আটকে তাদের জিজ্ঞাসা করা ,যাবি নাকি,ফোন নাম্বার দে, চল এমন সুখ দেব আমায় আর ছাড়বি না কথা তাদের রোজ শুনতে হতো।কোনো কথা না বলে তারা রোজ মাথা নিচু করে চলে যায়। ক্লাবের ভেতর চলতো রোজ মদ আর নীল ছবির ফোয়ারা। আগুন লাগার 5 দিন আগে,রোজের মত বাড়ি ফিরছিল দুই বন্ধু, তাদের পরীক্ষার র 1 মাস বাকি, আজ অঙ্কের পরিক্ষা ছিল 2 জনেই আশির ঘরে নম্বর পেয়েছে। স্যর ওদের দুজন কে দুটো চকোলেট গিফট করেছে, দুজনেই খুব খুশি তারা ,গল্প করতে করতে তারা বাড়ি ফিরছিল,ক্লাবের সামনে আসতে একজন মাল খেয়ে তার প্যান্টের জিপ খুলে দুজনের রাস্তা আটকে দাঁড়ায়। আর বলে আমায় আজ ঠান্ডা না করলে, মাগী তোদের দুটোকে তুলে নিয়ে গিয়ে সারারাত সবাই মিলে ফুর্তি করে ফেলে আসবো খালের ধারে। আমাদের কেউ কিচ্ছু করতে পারবেনা। দুজনেই ভয়ে কাঠ। সেই সময় ওখানকার কাউন্সিলার আসে ক্লাবে কথা বলতে, একজন এসে বলে ওই শিবু, দাদা এসেছেন ডাকছে চল,এক্ষুণি। শিবু বলে,ওকে মামনিরা আজ আসি কাল করবো। দেখে শুনে বাড়ি যেও,আবার কাল এস খেলা বাকি রয়ে গেল।
বাড়ি এসে ধুম জ্বর দিয়ার,রত্না ও কিছু বলতে পারে না বাড়িতে, দুই বন্ধুই যে কোনো শব্দে আৎকে আৎকে ওঠে।পল্টু রাতে বাড়ি ফিরে দেখে দিয়া আর রত্না একসাথে একে ওপর কে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, সে কিছু বুঝতে না পেরে ভাত রান্না না থাকায় না খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে দোকানে যাবে বলে। রাস্তায় তার মায়ের সাথে দেখা হয়ে যাওয়ায় সে বলে,তার বোনের কান্নার কথা। তার পরে চলে যায় সে দোকান। এক দোকানে সে জরির কাজ করে,কাজ শেষ করে রাত 2 টোর সময় সে বাড়ি ফেরে। আবার ভোর 5:30টাই সে বেরিয়ে পরে পেপার দেওয়ার জন্য। পেপার দিয়া 9 টাই সে বাড়ি ফিরেএকটু খেয়ে 10:00টাই বেরিয়ে পড়ে সে কোরিয়ার ডেলিভারি করতে। ফেরে সন্ধ্যায় 7 টার সময়,এই তার রোজ নামচা। কিছু ছোট স্বপ্ন তার ,তাই পূরণ করার জন্যই এত কষ্ট তার।
পেপার দিয়ে আসে বাড়িতে খেতে বসার সময় তার মা বলে তুই একটু ওদের 2 জন কে কোচিন থেকে নিয়ে আসবি,সপ্তাহে তো 3 দিন। পল্টু মুখে কিছু না বলে শুধু ঘাড় নারে। অনেক বোঝানোর পর দুই বন্ধু রাজি হয় কোচিন যাওয়ার জন্য। তাদের পড়তে দিয়ে আসে রত্নার মা আর রাতের বেলায় দুজন কে আনতে যায় পল্টু।
বাড়ি ফেরার সময় সে দেখে ক্লাবের সামনে 1 জন মাল খেয়ে বাবালি দিচ্ছে,র 5 জন বসে মজা নিচ্ছে। ওদের দেখেই এগিয়ে যায় ওদের দিকে, কি মামনিরা কোথায় ছিলে এতদিন। জিভ বার করে দুটো ঠোঁট চাটতে থাকে তাদের বুকের দিকে তাকিয়ে। পল্টু এসে বলে কি করছেন দাদা, ওর দিকে ফিরে ছেলেটা বলে বডি গার্ড, তো দুই মাগী তার ভাতার এনেছে। পল্টুর দিকে তাকিয়ে বলে,খানকির ছেলে তোকে আজ সালা পুতেই দেব,বলেই সে তার ছুরি টা বার করে। দিয়া দৌরে এসে বলে প্লিজ ছেড়ে দাও,ও আমার দাদা। ও তোমার দাদা, আচ্ছা তোমার ওই বন্ধুটার নামটা কি বলো ছেড়ে দেবো,সত্যি বলছি মা কালির দিব্যি । কাঁদতে কাঁদতে সে বলে ও চুমকি,কেউ এগিয়ে আসে না তাদের সাহায্য করার জন্য,5 জন বসে বসে শুধু মজা দেখতে থাকে। র বস্তির কোনো লোক আসেনা তাদের সাহায্যের জন্য। সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুধু মজা দেখতে থাকে। ছেলেটা পল্টুর কানের সামনে এসে বলে শুয়োরের বাচ্চা র কোনো দিন যেনো তোকে আর না দেখি। চল পালা চল। চুমকি কাল এস কিন্তু না হলে সোজা বাড়ি যাব। দৌড়ে পালিয়ে যায় দুই বন্ধু। ওদের পেছন পেছন নিজের শরীরটাকে কোনো রকমে টানতে টানতে সে বাড়ি পৌঁছায়। দুজনে বাড়িতে ঢুকে খুব কাঁদতে থাকে ,সব ঘটনা বলে দিয়া তার মাকে। গেটের পাশে রাখা একবালতি জল পল্টু ঢেলে নেয় নিজের ওপরে। সেই ভেজা অবস্থাতেই সে বাইরে পা ছড়িয়ে বসে পড়ে। নিজেকে পৃথিবীর সবথেকে অসহায় মনে হয় তার। এই ঘটনার পর থেকে পল্টু আরো চুপচাপ হয়ে যায়। এর মধ্যে পল্টুর মা ওদের ওখানকার পার্টি অফিসে কথা বলে,ওরা দেখবে বলেছে। ব্যাশ এইটুকুই। তার মধ্যে একজন বলে আলাদা করে কিচ্ছু হবে না মাসীমা,কেউ কিচ্ছু করবে না। দাদার খুব প্রিয় লোক ওরা। বাড়ি এসে চিৎকার করে বিলাপ বকতে থাকে পল্টুর মা। পল্টু সব বুঝতে পারে,কেউ কোনো সাহায্য করবে না তাদের। আপাতত দুই বন্ধুর পড়তে যাওয়া বন্ধ। ছোট্ট বোন পড়াশুনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াবে,পল্টুর এটাও একটা স্বপ্ন। সেটাও ধ্বংসর মুখে।
রাতের বেলায় দোকানে যায় সে, গলির রাস্তা নিলে ক্লাবের পেছন দিয়ে যাওয়া যায় দোকানে, এই রাস্তা দিয়ে খুব কম যায় সে, আজ বাড়ি ফেরার সময় সে ছোট রাস্তা ধরে আজ একটু বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার জন্য। ক্লাবের পাশ দিয়ে যাবার সময় সে দেখে দাও দাও করে জ্বলছে ক্লাব টা, আর ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার আর্তনাদ ভেসে আসছে। লোক জড়ো হয়ে জল দিচ্ছে ঠিক ই কিন্তু তাতে কোনো লাভ হচ্ছে না। পল্টু দৌড়ে গিয়ে দরজা ভেঙে বার করে আনে দুইজনকে আর সে পারে না। কালো ধোঁয়া যেনো তারই প্রাণ নিয়ে নেবে। দমকল র পুলিশ আস্তে আস্তে বাকিদের ভবলীলা সাঙ্গ। ততক্ষনে সোশাল মিডিয়ায় তার ভিডিও ভাইরাল।
পরের দিন হসপিটাল থেকে বাড়ি ফেরার সময় পাড়াতে সে ঢোকার মুখে দেখে অনেক লোক দাঁড়িয়ে তাদের পাড়ার মাঠে,কি কারণ সে বুঝতে পারে না। এলাকার নেতা হরশীত দা এসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলে, তোর জন্য আমরা আজ সবাই খুব গর্বিত। তাকে অভ্যর্থনা দেওয়ার জন্য এত লোকের সমাগম। সবাই তার সাথে 1 টা সেলফি তুলতে চাই,একবার ছুতে চায় তাকে। পাড়ার হিরো কে। নিজেকে বেশ ভালোলাগে,এলাকার ছেলেটা যার থাকার আর না থাকার কারোর কিছু আসে বস যায় না,আজ সবাই তাকে নিয়ে ব্যাস্ত। অভ্যর্থনা নিয়ে সে বাড়ি ফেরে, তার নিজের ভেতরেও একটা প্রশান্তি। অপূর্ব দার সঙ্গেও দেখা হয় তার বাড়ি ফেরার সময়,জরিয়ে ধরে বলে সুস্থ হয়ে আসিস কাজে কিন্ত। পেপার দিতে কিন্তু হবেই তোকে। বাড়িতে ফিরে তার বোন রাগে কথা বলে না পল্টুর সাথে। পল্টু কারণ বুঝতে না পেরে জিজ্ঞাসা করে কি রে দিয়া তুই খুসি না আমি বাড়ি ফেরাতে, দিয়া বলে খুশি দাদা কিন্তু ওই শয়তান দুটোকে কেন বাচালি তুই দাদা কাঁদতে কাঁদতে বলে সে।
পল্টু খুব শান্ত ভাবে বলে, ওরা এইখানে নরোক যন্ত্রনা ভোগ করবে বলে। দিয়া কিছু বুঝতে পারে না তার দাদার কথা। সে খুব যত্ন করে খাইয়ে দেয় তার দাদা কে। দিয়া চলে যায় ওর বন্ধুর বাড়িতে। বাড়িতে সে পুরো একা।
দুদিন পরে সে দেখা করতে যায় হাসপাতালে শিবুর সাথে,শিবু ওকে দেখেই পাঠা কাটার মতো নড়তে থাকে,তার চোখে ভয় ফুটে ওঠে, এটাই তো দেখতে চেয়েছিল পল্টু। শিবুর 70% বার্ন ,এইঅবস্থা দেখে ডক্টর ও জবাব দিয়ে দিয়েছেন। শিবু শুধু পল্টু কে দেখে আর ইশারা করে কিছু বলার চেষ্টা করে। সবাই ভাবে ওকে ধণ্যবাদ দিতে চাইছে। ভিজিটিং আওয়ার্স শেষ হবার বেল পড়তেই, শিবু কে ছেড়ে সবাই বেরিয়ে আসে পল্টু বাদে। পল্টু যাবার সময় শিবুর কানে হাসতে হাসতে বলে আসে তোমাদের সবকাটাকে তালা বন্ধ করে পুড়িয়ে মাড়লাম। দাদা তুমি কিন্তু এইখান থেকে ফিরে এসো না,তাহলে আবার পুড়িয়ে মারবো। বলেই সে বেরিয়ে পড়ে। পাশের পাড়া থেকে তাকে অভ্যর্থনা দেবে সেইখানে পৌঁছাতে হবে তাকে।
এইদিকে পুলিশ র দমকল আগুন লাগার কারণ শর্ট সার্কিট দেখিয়ে কেস বন্ধ করে দেয়। পরের দিন সকালে খবরের breaking news নাড়ুর পরে শিবুও ছাড়লো এই জগৎ।
সরকার থেকে বিশেষ অভ্যর্থনা দেওয়া হবে পল্টু কেতার সাহসিকতার জন্য।
--------------------------------------------------------------------------------------------
(আগুন লাগানোর ঘটনা)
ঘটনার 4 দিন আগে থেকে ক্লাবের রেকি করতে শুরু করে পল্টু। প্রতিদিন রাতে বাড়ি ফেরার সময় সে ছোট রাস্তা দিয়ে আসত। ঘটনার দিন ছিল শনিবার, রাতে ক্লাবে যেন মেলা বসেছে। মদ মাংস র যেন হরির লুঠ। দূরে একটা ঝোপের মধ্যে সে কিছু একটা রেখে চলে যায় দোকানে। রাত 1:30 পল্টু বেরিয়া পরে তার কাজ শেষ করে। সোজা চলে যায় ক্লাবের পেছনে। দেখে আলো জ্বলছে কিন্তু সবাই পুরো লাট। পল্টু ভালো করে দেখে নেই শিবু র নাড়ু কোথায়, ঘরের মাঝখানে আলো করে সে বসে বসে মাল টানছে শিবু। ওকে দেখেই কেমন যেন রাগ টা তার মাথা টাকে পুরো গ্রাস করে নিলো। সকালে যে জিনিস গুলো রেখে গিয়েছিল সেই গুলো বার করতে চলেগেল, বিড়বিড় করতে করতে। এরমধ্যেই পাওয়ার কাট হয়ে যাওয়ার জন্য চারিদিক অন্ধকার, আর চাঁদের হালকা আলোয় সব ই যেন মনে হচ্ছে, কিছু খারাপের জন্য অপেক্ষা সবার। সে হাতে একটা 10লিটার এর ডাব্বা,দেশলাই র একটা তালা চাবি নিয়ে এগিয়ে গেলো ক্লাবের দিকে,দরজার করাতে সে তালা মেরে দেয়,ভাল করে বাংলা মদ সে ছড়িয়ে দেয় চার দেয়ালে,শুধু আগুন জ্বালাতে যাবে,এই সময় তার সিক্সথ সেন্স তাকে বলে পাশের ঝোপের মধ্যে থেকে কে যেন এগিয়ে আসছে। পকেট এর ভেতরে ছুরিটাকে চেপে ধরে সে,দরকার পড়লে যেন 1 সেকেন্ড ও যেন দেরি না হয়। পল্টুর পেছন থেকে আওয়াজ আসে , কে বে আলী তুই, গলাটা খুব চেনা তার। বুঝতে পেরেছে সে এটা তার প্রিয় মানুষ শিবুর গলা। শয়তান টা বাইরে,যার জন্য এত আয়োজন সেই বাইরে। নিজেকে শান্ত করে সে। ওই বাঁচোদ কিছু তো বল,আওয়াজ টা আসে খুব কাছ থেকেই। পল্টুর পিঠে হাত পরতেই ছুরি টাকে সে তার সর্বশক্তি দিয়া ঢুকিয়ে দেয় পেটে। কোনো আওয়াজ করার আগেই মাটিতে পরে যায় সে। দু হাত তার রক্তে রাঙ্গা। নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারে না,আজ এত জন কে হত্যা করবে। আগুন লাগিয়ে দেয় সে ক্লাবের ভেতরে। নিমিষে দাও দাও করে ধরে যায় তা। চুপ করে গিয়ে সে আড়াল থেকে দেখতে থাকে, মিনিট 10 পরে চারিদিক থেকে শুরু হয় কোলাহল। এইবার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে সে দৌড়ে গিয়ে তালা খুলে নেয় দস্তানা পড়ে।র একবার ভালোকরে চেক করে ওদের দুজন আছে না গেছে শিবু র নাড়ু। ঘরের ভেতর একজন একজন করে দুজনের মুখ র লিঙ্গ সে আগুনে পুড়িয়ে দেয়, তারপরে কোনো রকমে সে অর্ধ মৃত দুজনকে বাইরে নিয়ে এসে নিজেও বেহুঁশ হয়ে যায়। 48ঘন্টা পরে হাসপাতালে মারা যায় নাড়ু,আর শিবুর আশঙ্কা জনক অবস্থা।
তার পরের ঘটনা সবার জানা।
সরকার থেকে তাকে আওয়ার্ড দেওয়া হয়, এলাকার যুবশক্তির মুখ সে।
এলাকার নেতা হরশিত দা, সব কিছু খারাপ কাজের পেছনে তার হাত,যে কোনো খারাপ কাজ দেখলে জেগে ওঠে পল্টুর ভেতরের সাইকোপাত মানুষটা..........
শুরু হলো নতুন অধ্যায়

Comments
Post a Comment